Category Archives: হাদিসের শিক্ষা

মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সাক্ষাত ও যাতায়াত বিষয়ে নির্দেশনা

  • হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

    “যে ব্যক্তি কোন রোগীকে দেখতে যায় অথবা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে কাউকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করে তাকে দেখতে যায়, তাকে আল্লাহর নিযুক্ত জন্যৈক ফেরেশতা ডেকে বলেনঃ তুমি সুখী হও, তোমার চলার পথও সুখের হউক এবং তুমি জান্নাতে নিজের আবাসভূমি গ্রহণ করো”। [ইবনে মাজা, তিরমিযী ও ইবনে হাব্বান]

    * সূত্রঃ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩য় খন্ড — ১৩১০

  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

    “বিরতি দিয়ে দিয়ে পরস্পরের সাথে মিলিত হও, তাহলে তোমাদের ভেতরে সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বাড়বে।” [তাবরানী, বাযযার]

    * সূত্রঃ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩য় খন্ড — ১৩১৩

  • হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

    “আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, যারা আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরে ওঠাবসা ও মেলামেশা করে, আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করে এবং আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পরের ওপর অর্থ ব্যয় করে, তাদেরকে ভালোবাসা আমার ওপর অপরিহার্য হয়ে পড়ে।” [মালেক]

    * সূত্রঃ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩য় খন্ড — ১৩১২

ইমাম আন-নববী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস (৩) – ইসলামের বুনিয়াদ

আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন উমার বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ

পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের বুনিয়াদ রাখা হয়েছে- সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা এবং রমাদানে সওম পালন করা।

[বুখারীঃ ৭, মুসলিমঃ ২১]

বিস্তারিত পড়ুন

ইমাম আন-নওয়াবী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস – দুই : ভাগ্য, ইসলাম, ইমান, ইহসান ও জ্ঞানীদের দৃষ্টান্ত [১]

লেখাটি নেয়া হয়েছে দ্বীন উইকলি থেকে । প্রথম পর্ব এখানে পড়ুন

এপর্বে জানবেনঃ
* হাদীসের সরল বাংলা অনুবাদ,
* হাদীসের ব্যাকগ্রাউন্ড,
* শিক্ষা,
* প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক জ্ঞানার্জনের পদ্ধতি,
* ক্বদর বা ভাগ্য,
* ভাগ্য সম্পর্কে ভুল ধারনাগুলো,

(হাদিসটি আরবিতে পড়তে ছবির উপরে ক্লিক করুন)

হাদীসের সরল বাংলা অনুবাদ

আমীরুল মু’মিনীন আবু হাফস্ উমার বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয় যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নাই। সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেনঃ “হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন”।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।

তিনি (লোকটি) বললেনঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বললঃ “আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাত বিশ্বাস করা এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দকে বিশ্বাস করা।

সে (আগুন্তুক) বললঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। তারপর বললঃ “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন”

তিনি বলেনঃ “তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন”।

সে বললঃ “আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেনঃ “যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না”।

সে (আগন্তুক) বললঃ “আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন”। তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে”।

তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেনঃ “হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললামঃ “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন”। তিনি বললেনঃ “তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।” [সহীহ্ মুসলিমঃ ৮]
বিস্তারিত পড়ুন

ইমাম আন-নওয়াবী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস :: এক – ইখলাস ও নিয়ত

লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে দ্বীন উইকলি থেকে

এই পর্বে জানবেন…

  • হাদীসের সরল বাংলা অর্থ
  • হাদীসের ব্যাকগ্রাউন্ড
  • হাদীসের শিক্ষা
  • ইখলাস অর্জনের অন্তরায়
  • ইখলাস (sincerity) কিভাবে অর্জন করবো
  • এই হাদীসের হুকুম গুলো

আমীরুল মু’মিনীন আবু হাফস্ উমার বিন আল-খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে [সহীহ্ আল-বুখারীঃ ১, সহীহ্ মুসলিমঃ ১৯০৭। বিস্তারিত পড়ুন

নবীজী সাল্ললাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা ও হাসি যেমন ছিলো

  • আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
  • "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কখনো অট্টহাসি দিতে দেখিনি যাতে তাঁর মুখ গহবর প্রকাশ পায়। তিনি সাধারণত মুচকি হাসি দিতেন।"

    [বুখারী, মুসলিম]

    সংগ্রহঃ রিয়াদুস সালেহীন, খন্ডঃ ২ হাদিসঃ ৭০৩

  • আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
  • "”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন কথা বলতেন, খুব স্পষ্ট ও পরিষ্কার করে বলতেন। শ্রোতাদের সবাই তা হৃদয়াঙ্গম করে নিতে পারতো।”"

    [আবু দাউদ]

    সংগ্রহঃ রিয়াদুস সালেহীন, খন্ডঃ ২ হাদিসঃ ৬৯৭

    সালামের আদান প্রদান

    • “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তার বাসিন্দাদের থেকে অনুমুতি নাও এবং তাদেরকে সালাম করো।” [সূরা নূরঃ ২৮]
    • “যখন তোমরা নিজেদের ঘরে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতময় ও পবিত্র।” [সূরা নূরঃ ৬১] বিস্তারিত পড়ুন

    বিয়ের হাদিস সংগ্রহ

    ১)

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন —

    কোন বান্দা যখন বিয়ে করলো, তখন সে তো দ্বীনের অর্ধেকটা পূর্ণ করে ফেললো। অতঃপর সে যেন অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।

    ২)

    যে বিবাহে খরচ কম ও সহজ সে বিবাহই অধিক বরকতপূর্ণ

    ৩)

    তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্যঃ ১) আযাদী চুক্তিবদ্ধ গোলাম — যে তার রক্তমূল্য আদায় করতে চায়, ২) পবিত্রতার মানসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি ৩) আল্লাহর পথের মুজাহিদ

    ……………………………………………..

    সূত্রঃ
    ১) [মিশকাত শরীফ, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৮] হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত
    ২) বায়হাকী, সূত্রঃ মিশকাত, পৃ ২৬৭
    ৩) তিরমিযী, সূত্রঃ মিশকাত পৃ ২৬৭

    সংগৃহীত বইঃ দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম — প্রকাশনায়ঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ