Category Archives: মুসলিম জাতির ঐতিহ্যময় ইতিহাস

আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার অতুলনীয় বিশ্বাসপরায়ণতার জন্য উপাধি পেয়েছিলেন আস সিদ্দিক। শুধু বিশ্বাস ও আমলেই নয়, দানশীলতার ক্ষেত্রেও তার কোন তুলনা ছিলনা।

উমার ইবনে খাত্তাব (রা) বলেছেন,
“তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যার যা আছে তা থেকে যুদ্ধ তহবিলে দান করার আহবান জানালেন। এ আহবান শুনে আমি নিজে নিজেকে বললাম, “আমি যদি আবু বকরকে অতিক্রম করতে পারি, তাহলে আজই সেই দিন”।
এই চিন্তা করে আমি আমার সম্পদের অর্ধেক মহানবীর (সা) খেদমতে হাজির করলাম। আল্লাহ রাসূল (সা) জিজ্ঞাসা করলেন, “পরিবারের জন্য তুমি কী রেখেছ? বললাম, “যেই পরিমাণ এনেছি সেই পরিমাণ রেখে এসেছি”।
এরপর আবুবকর তার দান নিয়ে হাজির হলেন। মহানবী (সা) ঠিক ঐভাবেই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আবু বকর, পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট আছে?” আবু বকর জবাব দিলেন, “তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল রয়েছেন”।
আমি আমার কানকে আগের মতন করেই বললাম, “কোন ব্যাপারেই আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না”।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]

Advertisements

উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন

অর্ধেক পৃথিবীর পরাক্রমশালী শাসক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু গেছেন জেরুসালেমে।

পরাজিত রোমান গভর্ণর তার হাতে তুলে দিয়েছেন রোমান নগরী। এর আগেই জেরুসালেম নগরীর পতন ঘটে মুসলিম বাহিনীর হাতে।

রোমান গভর্নর মহা আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে উমার (রা)-কে নিয়ে গেলেন নগরীর ভিতরে।
রোমান গভর্নর সুসজ্জিত বিলাসবহুল প্রাসাদে খলীফার থাকার ব্যবস্থা করলেন।

হযরত উমার (রা) সবিনয়ে এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমার ভাইদের সাথে সাধারণ তাঁবুতে থাকাই আমার জন্য বেশি আরামদায়ক হবে”।

ইসলামের শাসক ও নেতারা এমনই ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সাধারণের সাথে একাত্ম। আলাদা প্রাসাদ নয়, সাধারনের সাথেই তারা বাস করতেন।

[মূল – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ]

দূত উটের পিঠে, খলীফা পায়ে হেঁটে

৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দ।
তখন কাদেসিয়ায় যুদ্ধ চলছিল।
খলীফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু উদ্বিগ্ন ছিলেন ফলাফল জানার জন্য।
সেদিন মদীনার বাইরে তিনি পায়চারি করছিলেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কোন দূতের প্রতীক্ষায়।

এমন সময় তিনি দেখলেন অনেক দূরে ধূলি উড়িয়ে একজন ঘোড়সওয়ার ছুটে আসছে মদীনার দিকে। ঘোড়সওয়ার কাছে আসতেই খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারলেন কাদেসিয়া থেকে সেনাপতি সা’দ তাকে পাঠিয়েছেন। খলীফার কাছে যুদ্ধের বিজয়বার্তা বয়ে এনেছেন তিনি।

দূত সাধারণ পোষাক পরিহিত খলীফাকে চিনল না। খলীফা তার উটের পাশ ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে মদীনার দিকে চললেন। দূত উটের পিঠে আর খলীফা উটের পাশে পায়ে হেঁটে। সামান্য অহমিকাও খলীফার মধ্যে নেই।

[মূল – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ]

খলীফা উমার (রা)-এর ছেলের বিষ্ময়কর বিয়ে!

মদীনার এক পল্লী। তখন রাত।

খলীফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু নাগরিকদের অবস্থা জানার জন্য মদীনার রাস্তায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ এক বাড়িতে এক বৃদ্ধা ও তার কন্যার কথোপকথন শুনে দাঁড়ালেন। কান পাতলেন তিনি।

বৃদ্ধা মেয়েকে বলছেন, “মা, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করলে হয়না? তাহলে আমাদের অবস্থা আরো সচ্ছল হয়”।
কন্যা তার উত্তরে বললো, “তা কি করে হয়, মা। খলীফার হুকুম, কেউ দুধে পানি মিশাতে পারবে না”।
বৃদ্ধা বলল,”হোক না খলীফার আদেশ, কেউ তো আর দেখছে না”।
কন্যা প্রতিবাদ করে বলল,”না মা তা হয়না। প্রত্যেক বিশ্বাসী মুসলমানের কর্তব্য খলীফার আদেশ মেনে চলা। খলীফা না দেখতে পান, কিন্তু আল্লাহ তো সর্বব্যাপী, তার চোখে ধুলো দেব কি করে?”

খলীফা উমার (রা) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলেন। তারপর বাড়িতে ফিরে এলেন। তিনি ঘটনাটা ভুলতে পারলেন না। ভাবলেন, অজানা ঐ মেয়েটিকে কি পুরষ্কার দেয়া যায়। অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।

পরদিন দরবারে এসে খলীফা সেই অজানা মেয়েটিকে ডাকলেন। ডাক পেয়ে মা ও মেয়ে ভীতত্রস্ত কম্পিত পদে খলীফার দরবারে উপস্থিত হল।

তারা উপস্থিত হলে খলীফা তার পুত্রদের ডাকলেন। পুত্রদের নিকট গত রাতের সমস্ত বিবরণ দিয়ে তিনি তাদের আহবান করে বললেন, “কে রাযী হবে এই কন্যাকে গ্রহণ করতে? এর চেয়ে উপযুক্ত কন্যা আমি আর খুঁজে পাইনি।”

পুত্রদের একজন তৎক্ষণাৎ রাযী হলো। কন্যাও সম্মতি দিল। খলীফার ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেলো মেয়েটির।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি — আবুল আসাদ]
সূত্রঃ দ্বীন উইকলি ফেসবুক পেজ

উমার (রা) সবার সামনেই সা’দ (রা)-কে দোররা কষলেন

মদীনা শরীফ। ইসলামী সাম্রাজ্যের রাজধানী।
খলিফা উমর (রা) লোকদের মধ্যে বায়তুল মালের কিছু অর্থ বন্টন করছেন।

স্বাভাবিকভাবেই বিরাট ভীড় জমে গেছে। এ সময় সেখানে এলেন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস। তিনি প্রভাবশালী ও অভিজাত মায়ের সন্তান।

ভীড় দেখার পর অন্যান্যদের মত তার ধৈর্য ধরার দরকার ছিল, কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি ভীড় ঠেলে, দু’হাত দিয়ে লোকদের সামনে থেকে সরিয়ে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে হাজির হলেন।

উমার (রা) ব্যাপারটা আগেই লক্ষ্য করছিলেন। সুতরাং সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস তার সামনে হাজির হতেই উমার (রা) তার হাতের দোররা কষলেন তার পিঠে।

উপস্থিত সবাই দেখল খলিফা একটা দোররা মেরেছেন সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসকে।

দোররা মারার পর হযরত উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা) কে লক্ষ্য করে বললেন,

“সবার এবং সবকিছুর উর্ধে যে আল্লাহর আইন, তা তোমার মনে নেই। আল্লাহর আইনের মুকাবিলায় তোমার কানাকড়িও যে মূল্য নেই, এটা তোমাকে বুঝিয়ে দেয়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল”।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]

শীতে কাপড়ের অভাবে কেঁপেছেন খলীফা আলী

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক।

আলী (রা) জ্ঞানের দরজা। ন্যায়দন্ডের এক আপোষহীন রক্ষক তিনি।

মদীনার এক শীতের রাত। শীতে ঠকঠক করে কাঁপছেন আমীরুল মুমিনীন, বিশাল এক সাম্রাজ্যের শাসক আলী (রা)। শীত নিবারণের উপযুক্ত কাপড় তার নাই। অথচ তার রাস্ট্রীয় খাজাঞ্চীখানায় প্রচুর শীতবস্ত্র। বরং সে খাজাঞ্চিখানা তারই হাতের মুঠোয়।

কিন্তু তা থেকে একটি কম্বল নেয়ার জন্য তার হাত সেদিকে প্রসারিত হতে পারছে না। কারণ সেই খাজাঞ্চীখানা জনগণের। তিনি তো রক্ষক মাত্র। সবার সাথে তার নামে যেটুকু বরাদ্দ হবে, তা-ই শুধু তার। অপেক্ষা করতে হবে তাকে সেই বরাদ্দের।

তারঁ আপোষহীন ন্যায়দন্ড সদা উত্থিত ছিল। মানুষের জন্য শুধু নয়, তার নিজের জন্যও। আপনি আচরি ধর্ম তিনি অপরে শিখিয়েছেন।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]
ধন্যবাদঃ দ্বীন উইকলি ফেসবুক পেজ

চাকর ও মনিব খেলো একসাথে

মক্কা শরীফের একটি ঘটনা।

উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন মক্কায়। তিনি পথ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার চোখ গেল পাশেরই এক বাড়িতে। বাড়ির মালিকেরা বসে খাচ্ছে আর চাকর-বাকররা পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

ক্রুদ্ধ হলেন উমার (রা)। তিনি থমকে দাঁড়ালেন এবং গিয়ে উঠলেন সেই বাড়িতে। বললেন, "ব্যাপার কি? নিজেদের চাকর বাকরদের সাথে এই বৈষম্যমূলক ব্যবহার করছ কেন? বাড়ির মালিকেরা লজ্জিত ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।

চাকর বাকরদের সাথে এই ব্যবহার জাহেলিয়াত যুগে চলে আসা বহু বছরের অভ্যাস। এই অভ্যেস এখনো নির্মূল হয়নি!

উমার (রা) চাকর-বাকরদের ডেকে মনিবদের সাথে খানায় বসিয়ে দিলেন।
তারপর আবার ফিরে চললেন আপন গন্তব্যে।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]