Category Archives: আমরা সেই সে জাতি

মহানবী (সা)-এর কাছে গল্প শুনে কেঁদে আকুল হলেন আবু বকর (রা)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চিরবিদায়ের ৫ দিন আগের কথা।

সেদিন মহানবী (সা) এর পীড়ার তীব্রতা খুবই বৃদ্ধি পেল। রোগ যন্ত্রণায় তিনি অস্থির।
কিন্তু এর মধ্যেও তাঁর কথাগুলো মানুষকে জানাবার জন্য ব্যস্ত। তিনি সেখানে উপস্থিত নর-নারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন,

“তোমাদের আগের জাতিগুলো তাদের পরলোকগত নবী ও বুজুর্গদের কবরগুলো উপাসনালয়ে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা যেন এই মহাপাপে নিজেদের লিপ্ত করো না। খৃষ্টান ও ইহুদীরা এই পাপে অভিশপ্ত হয়েছে। দেখ, আমি নিষেধ করছি আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করে যাচ্ছি, সাবধান আমার কবরকে সিজদাগাহ বানাবে না। আমার এই চরম অনুরোধ অমান্য করলে তজ্জন্যে তোমরাই আল্লাহর নিকট দায়ী হবে। হে আল্লাহ, আমার কবরকে ‘পূজাস্থলে’ পরিণত করতে দিয়ো না।”

আর একদিনের কথা।

অসুস্থ মহানবী (সা) মসজিদের মিম্বরে আরোহণ করলেন। সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “আল্লাহ তাঁর একজন দাসকে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দান করলেন। কিন্তু সে দাস তা গ্রহণ না করে আল্লাহকে গ্রহণ করলো।”

এই কথা শুনে আবুবকর (রা) কাঁদতে শুরু করলেন।

আবুবকর (রা) এর কান্না দেখে অনেকে বলাবলি করতে লাগলো, বৃদ্ধের হঠাৎ আজ কী হলো! আল্লাহর নবী একজন লোকের গল্প বলছেন, আর উনি কেঁদে আকুল হচ্ছেন।

এ যে ছিল মহানবী (সা)-এর আশু বিদায়ের ইঙ্গিত, তা অনেকেই বুঝতে পারেননি।

.

সূত্র – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ

বড় উমারের ছোট অতীতকে স্মরণ করা

"এমন একটা সময় ছিল আমার জীবনে, যখন আমি খালাম্মার ছাগল চরাতাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে দিতেন মুষ্টিতে করে খেজুর। আর আজ সেই আমি এই অবস্থায় উপনীত হয়েছি।" একদিন মসজিদের মিম্বরে উঠে হযরত উমার (রা) শুধু একথা কয়টি বলেই নেমে পড়লেন।

ঐ কথাগুলো এবং এই ধরণের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই অবাক হলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ বলেই ফেললেন, "আমীরুল মুমিনীন, এর দ্বারা তো আপনি লোকদের সামনে নিজেকে ছোট করলেন"।

হযরত উমার (রা) বললেন, "ঘটনা হলো, একাকীত্বের সময় আমার মনে একথা জেগেছিল যে, তুমি আমীরুল মুমিনীন, তোমার চেয়ে বড় কে হতে পারে। তাই আমি প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে দিলাম যেন ভবিষ্যতে এমন কথা মনে আর না না জাগে।"

.

[সংগ্রহ – আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]

ইকরিমা বিন আবু জাহলের ওয়াদা পালন

ইসলাম গ্রহণের সময় ইকরিমা বিন আবু জাহল বলেছিলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি যত যুদ্ধ করেছেন, যত অর্থ খরচ করেছেন, তার দ্বিগুণ তিনি খরচ করবেন ইসলামের জন্য।

আমৃত্যু কথাটি মনে রেখেছিলেন ইকরিমা বিন আবু জাহল।

হযরত আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালে ভন্ড নবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু থেকে সেনাপতি ছিলেন ইকরিমা। এ জন্যে গঠিত ১১টি বাহিনীর একটির সেনাপতি ছিলেন তিনি। ইয়ামামা থেকে জর্ডান, জর্ডান থেকে ইয়েমেন — এই বিস্তৃত অঞ্চলে তিনি যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর বাহিনীর গোটা খরচ তিনি নিজের অর্থ থেকে ব্যয় করেছেন, বায়তুল মাল থেকে তিনি এক পয়সাও নেননি। বিস্তারিত পড়ুন

আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার অতুলনীয় বিশ্বাসপরায়ণতার জন্য উপাধি পেয়েছিলেন আস সিদ্দিক। শুধু বিশ্বাস ও আমলেই নয়, দানশীলতার ক্ষেত্রেও তার কোন তুলনা ছিলনা।

উমার ইবনে খাত্তাব (রা) বলেছেন,
“তাবুক যুদ্ধের প্রাক্কালে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যার যা আছে তা থেকে যুদ্ধ তহবিলে দান করার আহবান জানালেন। এ আহবান শুনে আমি নিজে নিজেকে বললাম, “আমি যদি আবু বকরকে অতিক্রম করতে পারি, তাহলে আজই সেই দিন”।
এই চিন্তা করে আমি আমার সম্পদের অর্ধেক মহানবীর (সা) খেদমতে হাজির করলাম। আল্লাহ রাসূল (সা) জিজ্ঞাসা করলেন, “পরিবারের জন্য তুমি কী রেখেছ? বললাম, “যেই পরিমাণ এনেছি সেই পরিমাণ রেখে এসেছি”।
এরপর আবুবকর তার দান নিয়ে হাজির হলেন। মহানবী (সা) ঠিক ঐভাবেই তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আবু বকর, পরিবারের জন্য কী অবশিষ্ট আছে?” আবু বকর জবাব দিলেন, “তাদের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল রয়েছেন”।
আমি আমার কানকে আগের মতন করেই বললাম, “কোন ব্যাপারেই আবু বকরকে কোনদিন ছাড়িয়ে যেতে পারবো না”।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]

উমার (রা) প্রাসাদ প্রত্যাখ্যান করলেন

অর্ধেক পৃথিবীর পরাক্রমশালী শাসক উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু গেছেন জেরুসালেমে।

পরাজিত রোমান গভর্ণর তার হাতে তুলে দিয়েছেন রোমান নগরী। এর আগেই জেরুসালেম নগরীর পতন ঘটে মুসলিম বাহিনীর হাতে।

রোমান গভর্নর মহা আড়ম্বরে স্বাগত জানিয়ে উমার (রা)-কে নিয়ে গেলেন নগরীর ভিতরে।
রোমান গভর্নর সুসজ্জিত বিলাসবহুল প্রাসাদে খলীফার থাকার ব্যবস্থা করলেন।

হযরত উমার (রা) সবিনয়ে এই ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে বললেন, “আমার ভাইদের সাথে সাধারণ তাঁবুতে থাকাই আমার জন্য বেশি আরামদায়ক হবে”।

ইসলামের শাসক ও নেতারা এমনই ছিলেন। তাঁরা ছিলেন সাধারণের সাথে একাত্ম। আলাদা প্রাসাদ নয়, সাধারনের সাথেই তারা বাস করতেন।

[মূল – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ]

দূত উটের পিঠে, খলীফা পায়ে হেঁটে

৬৩৫ খ্রিষ্টাব্দ।
তখন কাদেসিয়ায় যুদ্ধ চলছিল।
খলীফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু উদ্বিগ্ন ছিলেন ফলাফল জানার জন্য।
সেদিন মদীনার বাইরে তিনি পায়চারি করছিলেন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কোন দূতের প্রতীক্ষায়।

এমন সময় তিনি দেখলেন অনেক দূরে ধূলি উড়িয়ে একজন ঘোড়সওয়ার ছুটে আসছে মদীনার দিকে। ঘোড়সওয়ার কাছে আসতেই খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারলেন কাদেসিয়া থেকে সেনাপতি সা’দ তাকে পাঠিয়েছেন। খলীফার কাছে যুদ্ধের বিজয়বার্তা বয়ে এনেছেন তিনি।

দূত সাধারণ পোষাক পরিহিত খলীফাকে চিনল না। খলীফা তার উটের পাশ ঘেঁষে হেঁটে হেঁটে মদীনার দিকে চললেন। দূত উটের পিঠে আর খলীফা উটের পাশে পায়ে হেঁটে। সামান্য অহমিকাও খলীফার মধ্যে নেই।

[মূল – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ]

খলীফা উমার (রা)-এর ছেলের বিষ্ময়কর বিয়ে!

মদীনার এক পল্লী। তখন রাত।

খলীফা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু নাগরিকদের অবস্থা জানার জন্য মদীনার রাস্তায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ এক বাড়িতে এক বৃদ্ধা ও তার কন্যার কথোপকথন শুনে দাঁড়ালেন। কান পাতলেন তিনি।

বৃদ্ধা মেয়েকে বলছেন, “মা, দুধে পানি মিশিয়ে বিক্রি করলে হয়না? তাহলে আমাদের অবস্থা আরো সচ্ছল হয়”।
কন্যা তার উত্তরে বললো, “তা কি করে হয়, মা। খলীফার হুকুম, কেউ দুধে পানি মিশাতে পারবে না”।
বৃদ্ধা বলল,”হোক না খলীফার আদেশ, কেউ তো আর দেখছে না”।
কন্যা প্রতিবাদ করে বলল,”না মা তা হয়না। প্রত্যেক বিশ্বাসী মুসলমানের কর্তব্য খলীফার আদেশ মেনে চলা। খলীফা না দেখতে পান, কিন্তু আল্লাহ তো সর্বব্যাপী, তার চোখে ধুলো দেব কি করে?”

খলীফা উমার (রা) দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনলেন। তারপর বাড়িতে ফিরে এলেন। তিনি ঘটনাটা ভুলতে পারলেন না। ভাবলেন, অজানা ঐ মেয়েটিকে কি পুরষ্কার দেয়া যায়। অনেক ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিলেন।

পরদিন দরবারে এসে খলীফা সেই অজানা মেয়েটিকে ডাকলেন। ডাক পেয়ে মা ও মেয়ে ভীতত্রস্ত কম্পিত পদে খলীফার দরবারে উপস্থিত হল।

তারা উপস্থিত হলে খলীফা তার পুত্রদের ডাকলেন। পুত্রদের নিকট গত রাতের সমস্ত বিবরণ দিয়ে তিনি তাদের আহবান করে বললেন, “কে রাযী হবে এই কন্যাকে গ্রহণ করতে? এর চেয়ে উপযুক্ত কন্যা আমি আর খুঁজে পাইনি।”

পুত্রদের একজন তৎক্ষণাৎ রাযী হলো। কন্যাও সম্মতি দিল। খলীফার ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে গেলো মেয়েটির।

[মূলঃ আমরা সেই সে জাতি — আবুল আসাদ]
সূত্রঃ দ্বীন উইকলি ফেসবুক পেজ