Category Archives: মুসলিম জাতির ঐতিহ্যময় ইতিহাস

রাতে বাড়ি ফেরা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় জানা দরকার

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর রাতে বাড়ি ফেরা নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি নিজেও সকালে বা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতেন। এর দু’টো কারণ।

প্রথমত, আকষ্মিকভাবে স্বামীর রাতে বাড়ি ফেরার মধ্যে স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বাসের বীজ নিহিত থাকে। এ ধরনের অবিশ্বাস ইসলাম সমর্থন করে না।

দ্বিতীয়ত, স্ত্রী যেন নিজেকে পরিপাটি করে রাখতে পারে সে জন্যে স্বামীর আগমনের সময় জানার অধিকার তার আছে।

কিন্তু এখন এসব আনুষ্ঠানিকতার সুযোগ খুব কম। মানুষের যাতায়াতের সময়সূচী মেনে চলতে হয়। কে কখন কোথায় যাবে তা আগেভাগেই নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। তবে বাড়ি যাওয়ার আগে টেলিফোনে বা চিঠিতে জানানো উচিত।

সুতরাং, আমাদেরকে স্থান ও কালের প্রেক্ষাপটে উক্ত নিষেধাজ্ঞার কারণ ও উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।”


— ড. ইউসুফ আল কারাদাওয়ি

[সূত্র : ইসলামী পুনর্জাগরণ সমস্যা ও সম্ভাবনা, পৃষ্ঠা ৪৬]

ইবনে হাজর আল-আসকালানির জীবনের একটি ঘটনা

ইবনে হাজর আল আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ) তার সময়ের বিচারকদের সর্বোচ্চ পদে আসীন ছিলেন। তার একজন ইহুদী কর্মচারী ছিলো যে মাছ ভাজার কাজ করত। একদিন সে তাকে বললো,

আপনি একজন বিখ্যাত মুসলিম বিচারক, এরকম আভিজাত্যপূর্ণ পোশাক পরে আছেন এবং রাজার মতন করে জীবন কাটাচ্ছেন যখন আমি একজন কাফির হয়ে সারাদিন উত্তপ্ত তেলের পাশে দিন কাটাই। মুসলিমরা দাবী করে আপনাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এই (দুনিয়ার) জীবন মু’মিনদের জন্য কারাগার আর কাফিরদের জন্য জান্নাত। কিন্তু আমি তো দেখতে পাচ্ছি আমি জাহান্নামে আছি এবং আপনি জান্নাতে আছেন।

ইবনে হাজর উত্তর দিলেন, হাদিসটি সহীহ। আখিরাতে যদি জান্নাতে যেতে পারি তাহলে আমার জন্য যা অপেক্ষা করছে সে তুলনায় তা আমি দুনিয়ায় যে আরামে জীবন কাটাচ্ছি তা জাহান্নাম। অন্যদিকে যদি তুমি কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো তাহলে জাহান্নামে তোমার জন্য যা অপেক্ষা করছে সে তুলনায় যে দুঃখ-দুর্দশায় তুমি আছ তা জান্নাতের মতই।

কাহিনীটির শেষে বর্ণিত আছে ইহুদি লোকটি এই ঘটনাটির পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো।

[শাইখ আসিম আল হাকিমের লেখা থেকে ভাষান্তর]

খালিদ বিন ওয়ালিদের সাথে কথা বলে ঈমান আনলেন রোমান সেনাপতি

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যক্তিত্ব রোমান বাহিনীকে কতটুকু প্রভাবিত করেছিল বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে তা অনুধাবন করা যায়। ইয়ারমূকের যুদ্ধ তখন চলছে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রোমান বাহিনীর এক কমান্ডার, নাম ‘জারজাহ’ নিজ ছাউনী থেকে বেরিয়ে এল। তার উদ্দেশ্য খালিদের সাথে সরাসরি কথা বলা। খালিদ তাকে সময় ও সুযোগ দিলেন।

জারজাহ বললো : “খালিদ আমাকে একটি সত্যি কথা বলুন, মিথ্যা বলবেন না। স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মিথ্যা বলেন না। আল্লাহ কি আকাশ থেকে আপনাদের নবীকে এমন কোন তরবারি দান করেছেন যা তিনি আপনাকে দিয়েছেন এবং সেই তরবারি যাদের বিরুদ্ধেই উত্তোলিত হয়েছে, তারা পরাজিত হয়েছে?
খালিদ : না।
জারজাহ : তাহলে আপনাকে ‘সাইফুল্লাহ’ — আল্লাহর তরবারি বলা হয় কেন?
খালিদ : আল্লাহ আমাদের মাঝে তার রাসূল পাঠালেন। আমদের কেউ তাকে বিশ্বাস করলো, কেউ করলো না। প্রথমে আমি ছিলাম শেষোক্ত দলে। অতঃপর আল্লাহ আমার অন্তর ঘুরিয়ে দেন। আমি তাঁর রসূলের ওপর ঈমান এনে তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি। রসূল (সা) আমার জন্য দু’আ করেন। আমাকে তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর একটি তরবারি। এভাবে আমি হলাম ‘সাইফুল্লাহ’। বিস্তারিত পড়ুন

মহানবী (সা)-এর কাছে গল্প শুনে কেঁদে আকুল হলেন আবু বকর (রা)

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চিরবিদায়ের ৫ দিন আগের কথা।

সেদিন মহানবী (সা) এর পীড়ার তীব্রতা খুবই বৃদ্ধি পেল। রোগ যন্ত্রণায় তিনি অস্থির।
কিন্তু এর মধ্যেও তাঁর কথাগুলো মানুষকে জানাবার জন্য ব্যস্ত। তিনি সেখানে উপস্থিত নর-নারীদের উদ্দেশ্য করে বললেন,

“তোমাদের আগের জাতিগুলো তাদের পরলোকগত নবী ও বুজুর্গদের কবরগুলো উপাসনালয়ে পরিণত করেছে। সাবধান! তোমরা যেন এই মহাপাপে নিজেদের লিপ্ত করো না। খৃষ্টান ও ইহুদীরা এই পাপে অভিশপ্ত হয়েছে। দেখ, আমি নিষেধ করছি আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আমি তোমাদেরকে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করে যাচ্ছি, সাবধান আমার কবরকে সিজদাগাহ বানাবে না। আমার এই চরম অনুরোধ অমান্য করলে তজ্জন্যে তোমরাই আল্লাহর নিকট দায়ী হবে। হে আল্লাহ, আমার কবরকে ‘পূজাস্থলে’ পরিণত করতে দিয়ো না।”

আর একদিনের কথা।

অসুস্থ মহানবী (সা) মসজিদের মিম্বরে আরোহণ করলেন। সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, “আল্লাহ তাঁর একজন দাসকে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দান করলেন। কিন্তু সে দাস তা গ্রহণ না করে আল্লাহকে গ্রহণ করলো।”

এই কথা শুনে আবুবকর (রা) কাঁদতে শুরু করলেন।

আবুবকর (রা) এর কান্না দেখে অনেকে বলাবলি করতে লাগলো, বৃদ্ধের হঠাৎ আজ কী হলো! আল্লাহর নবী একজন লোকের গল্প বলছেন, আর উনি কেঁদে আকুল হচ্ছেন।

এ যে ছিল মহানবী (সা)-এর আশু বিদায়ের ইঙ্গিত, তা অনেকেই বুঝতে পারেননি।

.

সূত্র – আমরা সেই সে জাতি : আবুল আসাদ

বড় উমারের ছোট অতীতকে স্মরণ করা

"এমন একটা সময় ছিল আমার জীবনে, যখন আমি খালাম্মার ছাগল চরাতাম। পরিবর্তে তিনি আমাকে দিতেন মুষ্টিতে করে খেজুর। আর আজ সেই আমি এই অবস্থায় উপনীত হয়েছি।" একদিন মসজিদের মিম্বরে উঠে হযরত উমার (রা) শুধু একথা কয়টি বলেই নেমে পড়লেন।

ঐ কথাগুলো এবং এই ধরণের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই অবাক হলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ বলেই ফেললেন, "আমীরুল মুমিনীন, এর দ্বারা তো আপনি লোকদের সামনে নিজেকে ছোট করলেন"।

হযরত উমার (রা) বললেন, "ঘটনা হলো, একাকীত্বের সময় আমার মনে একথা জেগেছিল যে, তুমি আমীরুল মুমিনীন, তোমার চেয়ে বড় কে হতে পারে। তাই আমি প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে দিলাম যেন ভবিষ্যতে এমন কথা মনে আর না না জাগে।"

.

[সংগ্রহ – আমরা সেই সে জাতি – আবুল আসাদ]

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা) : একজন বিনয়ী মানুষের কথা

আব্দুল্লাহ ইবন উমার। পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব, মাতা যয়নাব। সঠিক বর্ণনা মতে হিজরী তৃতীয় সনে উহুদ যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। এই হিসাবে নবুয়াতের দ্বিতীয় বছরে তার জন্ম। নবুয়াতের ষষ্ঠ বছরে হযরত উমার যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন আব্দুল্লাহর বয়স প্রায় পাঁচ।

হযরত ইবন উমার (রা) মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে এমন সব কাজ থেকে সব সময় বিরত থাকতেন। তিনি ছিলেন সত্যভাষী। তবে মাঝে মাঝে মুসলিম উম্মাহর ক্ষতির সম্ভাবনা দেখলে চুপ থাকতেন। একবার হযরত আমীর মুয়াবিয়া (রা) দাবী করলেন খিলাফত লাভের অধিকার আমার থেকে বেশী আর কার আছে? ইবন উমার একথার জবাব দিতে গিয়েও ফিতনা-ফাসাদের ভয়ে দেননি। তিনি চুপ থাকেন।

এমনিভাবে মিনায় খলীফা উসমানের পেছনে চার রাকায়াত নামায আদায় করেন। অথচ তিনি মনে করতেন রাসূলুল্লাহ (সা), আবু বকর ও উমারের সুন্নাত অনুযায়ী সেখানে কসর হওয়া উচিত। আবার একাকী পড়লে দু’রাকায়াতই পড়লেন। বিভেদ সৃষ্টির আশংকায় উসমানের পেছনে চার রাকায়াত পড়েছিলেন। বিস্তারিত পড়ুন

ইকরিমা বিন আবু জাহলের ওয়াদা পালন

ইসলাম গ্রহণের সময় ইকরিমা বিন আবু জাহল বলেছিলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে তিনি যত যুদ্ধ করেছেন, যত অর্থ খরচ করেছেন, তার দ্বিগুণ তিনি খরচ করবেন ইসলামের জন্য।

আমৃত্যু কথাটি মনে রেখেছিলেন ইকরিমা বিন আবু জাহল।

হযরত আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালে ভন্ড নবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু থেকে সেনাপতি ছিলেন ইকরিমা। এ জন্যে গঠিত ১১টি বাহিনীর একটির সেনাপতি ছিলেন তিনি। ইয়ামামা থেকে জর্ডান, জর্ডান থেকে ইয়েমেন — এই বিস্তৃত অঞ্চলে তিনি যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর বাহিনীর গোটা খরচ তিনি নিজের অর্থ থেকে ব্যয় করেছেন, বায়তুল মাল থেকে তিনি এক পয়সাও নেননি। বিস্তারিত পড়ুন