Category Archives: আব্দুল নাসির জাংদা

ইস্তিখারা কীভাবে এবং কেন

ইস্তিখারা সম্পর্কে ডক্টর বিলাল ফিলিপস বলেছেন,

আমাদের যদি কোন সিদ্ধান্ত নিতে হয় তবে আমরা ইস্তিখারার নামায পড়ি। কিন্তু অনেকেই এ কাজটি করতে চাননা। এর বদলে তারা কুরআন নিয়ে কয়েক লাইন নিচে নামে, কি কি করতে হবে এর জন্য একটা বইও পারলে সাথে রাখে। উদাহরণস্বরূপ তারা কুরআনের যেকোন একটা পাতা মেলে তিন লাইন নিচে নামে, চতুর্থ শব্দটার প্রথম বা তৃতীয় অক্ষর দেখে, এরপর অক্ষরটা সারণীতে মিলিয়ে নেয়। যদি অক্ষরটা লাম হয় তবে সেখানে লেখা থাকে কি করতে হবে,কোনটা না করা ভাল অথবা যদি অক্ষরটা মীম হয় তবে ঐটা করতে হবে ইত্যাদি। মানুষ এভাবে কুরআন ব্যবহার করছে। এর তুলনা চলে চীনাদের আইচিং বইয়ের। তারা কতগুলো কাঠি নিক্ষেপ করে এবং কাঠিগুলো কিভাবে পড়ল তা দেখে বইটা থেকে জানতে পারে এভাবে বা ঐভাবে হলে কি অর্থ দাঁড়ায়।

ইস্তিখারা নামাযকেও মানুষ জ্যোতিষিদের ক্রিস্টাল বলের মত করে ফেলেছে। নামায পড়ে স্বপ্নের জন্য মানুষ অপেক্ষা করে, স্বপ্নই বলে দেবে কি করতে হবে। যদি স্বপ্ন না দেখে তবে আগামীদিন আবার ইস্তিখারা পড়ে। এভাবে দশ পনেরোবার নামায পড়ে ফেলে স্বপ্নের আশায়। রাসুলুল্লাহ (সা) কখনো স্বপ্নের কথা বলেননি, কিন্তু অধিকাংশ মুসলিমই ভাবে স্বপ্ন দেখতে হবে। আমার ছেলের কিছু করার থাকলে আমি ইস্তিখারা পড়লাম অথবা কোন মোল্লাকে আমার ছেলের জন্য নামায পড়ে দিতে বললাম, এর সবই রাসুলুল্লাহর (সা) শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। একে ইস্তিখারা নামায বলা যায়না। ইস্তিখারা নামায হচ্ছে যখন কেউ মনে মনে কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় তখন দুই রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে বলে, সর্বজ্ঞানী আল্লাহ যেন তার এই সিদ্ধান্ত এই জীবন ও পরকালের জন্য শুভ হলে কাজটা সহজ করে দেন এবং শুভ না হলে কাজটা কঠিন করে দেন। এই পদ্ধতি অতীব সহজ সরল ও বোধগম্য। আপনি কি করতে হবে বুঝতে না পারলে ইস্তিখারা নামায পড়বেন, ব্যাপারটি তা নয়। এ অবস্থায় এ নামায নয়। আমাদের প্রথমে অবস্থা বুঝে সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্তে পৌছঁতে হবে, এরপর আল্লাহর কাছে দোআ করতে হবে এই সিদ্ধান্ত কি আমার জন্য ঠিক? যদি ঠিক হয় তবে আমার জন্য তা সহজ করো আর ভুল হলে কঠিন করো। এটাই হচ্ছে ইস্তিখারা নামাযের সঠিক পদ্ধতি। [১]

হাদিসে ইস্তিখারা করার তাগিদ এসেছে এইভাবে, [২]

‘যখন তোমাদের কেউ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চায় সে যেন দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে অতপর বলে :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ، وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ ، وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ – فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي.

‌‘হে আল্লাহ, আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করছি।‌ কেননা আপনি শক্তিধর, আমি শক্তিহীন, আপনি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং আপনি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী। হে আল্লাহ, এই কাজটি (এখানে উদ্দিষ্ট কাজ বা বিষয়টি উল্লেখ করবেন) আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, আমার জীবিকা এবং আমার পরিণতির ক্ষেত্রে অথবা ইহলোক ও পরলোকে কল্যাণকর হয়, তবে তাতে আমাকে সামর্থ্য দিন। পক্ষান্তরে এই কাজটি আপনার জ্ঞান মোতাবেক যদি আমার দীন, জীবিকা ও পরিণতির দিক দিয়ে অথবা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতিকর হয়, তবে আপনি তা আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন এবং কল্যাণ যেখানেই থাকুক, আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দিন। অত:পর তাতেই আমাকে পরিতুষ্ট রাখুন।’

[বুখারী : ১১৬৬; আবূ দাউদ : ১৫৪০]

ইস্তিখারা কীভাবে করতে হয় এবং কেন এত গুরত্বপূর্ণ — আব্দুল নাসির জাংদার সুন্দর আলোচনা

রেফারেন্স
[১] বিংশ শতকের জাহিলিয়্যাত — ড বিলাল ফিলিপস
[২] বিয়ের প্রস্তুতি

রামাদান সমাগত – দুআ করুন :: আব্দুল নাসির জান্দা

রামাদান সমাগত – দুআ করা নিয়ে আলোচনা করেছেন আব্দুল নাসির জান্দা | শুনে নিন চমত্কার এই আলোচনা