Category Archives: ইমাম আন-নববী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস

ইমাম আন-নববী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস (৩) – ইসলামের বুনিয়াদ

আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ্ বিন উমার বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ

পাঁচটি জিনিসের উপর ইসলামের বুনিয়াদ রাখা হয়েছে- সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, আল্লাহর ঘরের হজ্জ করা এবং রমাদানে সওম পালন করা।

[বুখারীঃ ৭, মুসলিমঃ ২১]

বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

ইমাম আন-নওয়াবী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস – দুই : ভাগ্য, ইসলাম, ইমান, ইহসান ও জ্ঞানীদের দৃষ্টান্ত [১]

লেখাটি নেয়া হয়েছে দ্বীন উইকলি থেকে । প্রথম পর্ব এখানে পড়ুন

এপর্বে জানবেনঃ
* হাদীসের সরল বাংলা অনুবাদ,
* হাদীসের ব্যাকগ্রাউন্ড,
* শিক্ষা,
* প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক জ্ঞানার্জনের পদ্ধতি,
* ক্বদর বা ভাগ্য,
* ভাগ্য সম্পর্কে ভুল ধারনাগুলো,

(হাদিসটি আরবিতে পড়তে ছবির উপরে ক্লিক করুন)

হাদীসের সরল বাংলা অনুবাদ

আমীরুল মু’মিনীন আবু হাফস্ উমার বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসেছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয় যার কাপড় ছিল ধবধবে সাদা, চুল ছিল ভীষণ কালো; তার মাঝে ভ্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনতে পারে নাই। সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসে, নিজের হাঁটু তার হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে নিজের হাত তার উরুতে রেখে বললেনঃ “হে মুহাম্মাদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন”।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ইসলাম হচ্ছে এই- তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা কর, যাকাত আদায় কর, রমাদানে সওম সাধনা কর এবং যদি সামর্থ থাকে তবে (আল্লাহর) ঘরের হজ্জ কর।

তিনি (লোকটি) বললেনঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। আমরা বিস্মিত হলাম, সে নিজে তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে আবার নিজেই তার জবাবকে ঠিক বলে ঘোষণা করছে। এরপর বললঃ “আচ্ছা, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- আল্লাহ্, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও আখেরাত বিশ্বাস করা এবং ভাগ্যের ভাল-মন্দকে বিশ্বাস করা।

সে (আগুন্তুক) বললঃ “আপনি ঠিক বলেছেন”। তারপর বললঃ “আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন”

তিনি বলেনঃ “তা হচ্ছে এই- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে নাও পাও তবে তিনি তোমাকে দেখছেন”।

সে বললঃ “আমাকে কেয়ামত সম্পর্কে বলুন”।

তিনি (রাসূল) বললেনঃ “যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে সে জিজ্ঞাসাকারী অপেক্ষা বেশী কিছু জানে না”।

সে (আগন্তুক) বললঃ “আচ্ছা, তার লক্ষণ সম্পর্কে বলুন”। তিনি (রাসূল) বললেনঃ “তা হচ্ছে এই- দাসী নিজের মালিককে জন্ম দেবে, সম্পদ ও বস্ত্রহীন রাখালগণ উঁচু উঁচু প্রাসাদে দম্ভ করবে”।

তারপর ঐ ব্যক্তি চলে যায়, আর আমি আরো কিছুক্ষণ বসে থাকি। তখন তিনি (রাসূল) আমাকে বললেনঃ “হে উমার, প্রশ্নকারী কে ছিলেন, তুমি কি জান? আমি বললামঃ “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অধিক ভাল জানেন”। তিনি বললেনঃ “তিনি হলেন জিবরীল। তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে তোমাদের কাছে এসেছিলেন।” [সহীহ্ মুসলিমঃ ৮]
বিস্তারিত পড়ুন

ইমাম আন-নওয়াবী (রহ) এর সংকলিত চল্লিশ হাদীস :: এক – ইখলাস ও নিয়ত

লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে দ্বীন উইকলি থেকে

এই পর্বে জানবেন…

  • হাদীসের সরল বাংলা অর্থ
  • হাদীসের ব্যাকগ্রাউন্ড
  • হাদীসের শিক্ষা
  • ইখলাস অর্জনের অন্তরায়
  • ইখলাস (sincerity) কিভাবে অর্জন করবো
  • এই হাদীসের হুকুম গুলো

আমীরুল মু’মিনীন আবু হাফস্ উমার বিন আল-খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন- আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- সমস্ত কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়্যত করেছে, তাই পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য হিজরত করেছে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়েছে, আর যার হিজরত দুনিয়া (পার্থিব বস্তু) আহরণ করার জন্য অথবা মহিলাকে বিয়ে করার জন্য তার হিজরত সে জন্য বিবেচিত হবে যে জন্য সে হিজরত করেছে [সহীহ্ আল-বুখারীঃ ১, সহীহ্ মুসলিমঃ ১৯০৭। বিস্তারিত পড়ুন

ইমাম নববী এবং রিয়াদুস সালেহীন

আল্লামা ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) এর জীবনী

বিশ্বখ্যাত হাদীস গ্রন্থ ‘রিয়াদুস সালেহীন’ এর রচয়িতা হলেন, বিশিষ্ট মুহাদ্দিস, বহু গ্রন্থের লেখক, জগত বিখ্যাত হাদীস বিশারদ ও ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ। তার নাম হলো, শায়খ মুহিউদ্দিন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারফ আল নাবাবী আল দামেশকী। তার ডাকনাম আবু যাকারিয়া, মূলনাম ইয়াহইয়া এবং লকব-উপাধি মুহিউদ্দিন।

৬৩১ হিজরীর ৫ই মুহাররামে তিনি সিরিয়ার রাজধানী দামেশকের নিকটবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭৬ হিজরীর রজবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
বিস্তারিত পড়ুন