Category Archives: আত তারগীব ওয়াত তারহীব

ভালো কথা বলা, বিনয় অবলম্বন করাই কল্যাণকর

  • “নিস্প্রয়োজন কথা ও কাজ বর্জন মানুষের দীনদারীকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে।” — [তিরমিযী]
  • “মুসলমান হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যার জিহবা ও হাত দ্বারা কোন মুসলমান কষ্ট পায় না। আর মুহাজির হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিস থেকে হিজরত করে (অর্থাৎ তা বর্জন করে)।” [বুখারী ও মুসলিম]
  • “যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ সংবরণ করে আল্লাহ তাকে তার আযাব থেকে রক্ষা করবেন। আর যে ব্যক্তি জিহবাকে সংযত রাখে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি গোপন করবেন”। — [তাবরানী ও আবু ইয়ালা]
  • “আল্লাহর স্মরণ ও তার সম্পর্কে কিছু বলা ছাড়া কথা বাড়িও না, কেননা আল্লাহর স্মরণ ও তার সম্পর্কে কিছু কথা বলা ছাড়া কথা বাড়ানো মনকে কঠিন বানিয়ে দেয়। মনে রেখো যার মন কঠিন, সেই আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত” — [তিরমিযী, বায়হাকী]
  • “যে ব্যক্তি যা জানে, সে অনুসারে কাজ করে, নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকে, তার জন্য সুসংবাদ”। — [তাবরানী]
  • “সৎকাজের আদেশ অসৎকাজ থেকে নিষেধ অথবা আল্লাহর স্মরণ সংবলিত কথা ছাড়া সমস্ত কথাই আদম সন্তানের জন্য ক্ষতিকর”।–[তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে আবিদ দুনিয়া]
  • “আল্লাহ তায়ালা কোমল চিত্ত। সবকিছুতে তিনি কোমলতাকে পছন্দ করেন।” –[বুখারী ও মুসলিম]

আত তারগীব ওয়াত তারহীব থেকে

জুমুআর গুরুত্ব সম্পর্কিত হাদিস

  • হযরত সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“কোন ব্যক্তি যদি জুমুয়ার দিন গোসল করে যতদূর সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল থেকে তেল ও নিজের ঘরের সুগন্ধী থেকে সুগন্ধী মাখে, অতঃপর নামাযের জন্যো এমনভাবে বের হয় যে, কোন দুই ব্যক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে না, অতঃপর যে নামায ফরজ করা হয়েছে, তা পড়ে, অতঃপর ইমাম যা বলেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার ঐ জুমুয়া ও পরবর্তী জুমুয়ার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করা হবে” [বুখারী ও নাসায়ী]

  • হযরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিন আল্লাহ তায়ালা হযরত আদমকে সৃষ্টি করেন, তাকে মৃত্যু দেন, ইসরাফীল আলাইহিস সালাম এই দিন শিংগায় ফুঁ দেবেন এবং এই দিন (শিংগার ধ্বনিতে) সকল প্রাণী অচেতন হয়ে যাবে। অতএব, এই দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরূদ পড়, কেননা জুমুয়ার দিন আমার ওপর তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়। উপস্থিত লোকেরা বললোঃ মাটিতে আপনার হাড়গোড় মিশে যাওয়ার পর কীভাবে আপনার কাছে আমাদের দরূদ পাঠানো হবে। রাসূল (সা:) বললেনঃ আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেহ খাওয়াকে মাটির ওপর হারাম করে দিয়েছেন। ” [আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হাব্বান]

  • হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“শুক্রবার দিন ও রাতের চব্বিশ ঘন্টায় একটা ঘন্টা এমন রয়েছে, যখন ছয় লক্ষ ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা দোযখ থেকে মুক্তি দেন।”

  • হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন সূরা কাহফ পড়বে তার দুই জুমুয়ার মধ্যবর্তী সমগ্র সময় জুড়ে তার ওপর আল্লাহর জ্যোতি বর্ষিত হতে থাকবে”। [নাসায়ী, বাইহাকী]

  • হযরত আবু উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“শুক্রবার গোসল গুনাহগুলোকে চুলের গোড়া থেকে সমূলে উপড়ে ফেলে।” [তাবরানী]

—-
সংগ্রহঃ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ১ম খন্ড

কোন মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষবশত কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেনঃ
¶”যারা ঈমানদার নারী ও পুরুষকে মিথ্যে অপবাদ রটিয়ে কষ্ট দেয়, তারা কুৎসা রটনায় ও সুস্পষ্ট পাপে লিপ্ত হয়।” [সূরা আল আহযাব: ৫৮] ¶

“তোমরা সহজ নীতি ও আচরণ অবলম্বন করো, কঠোর নীতি অবলম্বন করো না। সুসংবাদ শুনাতে থাকো এবং পরস্পর ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িও না।” [বুখারী ও মুসলিম]

#রিয়াদুস সালেহীন: ৬৩৭

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
¶”সাবধান, তোমরা কারো সম্পর্কে মনগড়া ধারণা পোষণ করো না। মনগড়া ধারণা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার। তোমরা আন্দাজ অনুমান করো না, দোষ অনুসন্ধান করো না, পার্থিব সম্পদ অর্জনে প্রতিযোগিতা করো না।

পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। কেউ কাউকে ঈর্ষা করো না, কেউ কাউকে অবজ্ঞা করো না। আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাও। মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তাকে যুলুম করবে না, অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবে না, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে না।

আল্লাহর ভয় এখানে, আল্লাহর ভয়ে এখানে, আল্লাহর ভয়ে এখানে — এই বলে তিনি নিজের বুকের দিকে ইংগিত করলেন। একজন মুসলমান আরেক মুসলমান ভাইকে ঘৃণা করবে তাচ্ছিল্য করবে ও হেয় মনে করবে এর চেয়ে খারাপ কাজ আর কিছু হতে পারে না।

প্রত্যেক মুসলমানের কাছে অপর মুসলমানের জান-মাল ও সম্ভ্রম পরম সম্মানের।”
[মালেক, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী] ¶

► আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৯৭ ►

কথাবার্তা বলার ব্যাপারে আরেকটু যত্নবান হওয়া দরকার আমাদের সবারই, নিজেদের উন্নত করার আসলে কোন শেষ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে আরো উন্নত চরিত্রের হবার তাওফিক দিন, আমরা যেন নোংরা বিদ্বেষবশত অসাবধানে কথা বলে নিজেদের ধ্বংসের দিকে পা না বাড়াই, আমরা যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথে চলে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি — মহান রব আমাদের সেই যোগ্যতা দিন…

কোন মুসলমানকে কাফির অ্যাখ্যায়িত করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী

কোন মুসলমানকে কাফির অ্যাখ্যায়িত করার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারী।
আল্লাহ আমাদেরকে অভিশপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করুন, উত্তম চরিত্রকে ধারণ করার তাওফিক দান করুন।

► হযরত আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) বলেছেনঃ

“কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে কাফির আখ্যায়িত করলে ঐ দু’জনের যেকোন একজন কাফির হবে। যাকে কাফির অ্যাখ্যায়িত করেছে, সে যদি যথার্থই কাফির হয়ে থাকে, তাহলে তো কোন কথা নেই। নচেৎ যে কাফির বলেছে, সে-ই কাফির হবে।” [বুখারী ও মুসলিম]

# আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৫৯

► হযরত আবু সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূল (সা) বলেছেনঃ

“যদি কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে কাফির বলে তাহলে দু’জনের একজনের ওপরেই এ অভিশাপ পড়বে, যদি ঐ ব্যক্তি কাফির না হয়, তাহলে যিনি কাফির বললেন সেই কাফির হয়ে যাবে”। [ইবনে হিব্বান]

# আত তারগীব ওয়াত তারহীব – ১৪৬০

বিপদের আশংকা যখন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

“যখন আমার উম্মাত ১০টা কাজ করবে, তখন তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে রাসূল, কী কী? তিনি বললেনঃ

  • যখন রাস্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করা হবে
  • যখন আমানত হিসেবে রক্ষিত সম্পদকে লুটের মাল হিসাবে গ্রহণ করা হবে (অর্থাৎ আত্মসাৎ করা হবে)
  • যাকাতকে জরিমানার মতন মনে করা হবে
  • স্বামী যখন স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে
  • বন্ধুর প্রতি সদাচারী ও পিতার সাথে দুর্ব্যবহারকারী হবে
  • মসজিদে হৈ চৈ হবে
  • জনগণের নেতা হবে সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যেকার সবচেয়ে নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী
  • মানুষকে তার ক্ষতির আশংকায় সম্মান করা হবে
  • গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের হিড়িক পড়ে যাবে
  • উম্মাতের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদেরকে অভিশাপ দেবে

তখন আগুনে বাতাস আসবে, মাটির ধস ও দেহের বিকৃতি ঘটবে।”

  • সহীহ তিরমিযী
  • হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
  • আততারগীব ওয়াত তারহীব- ৩য় খন্ড (১৫৪১)

সালামের আদান প্রদান

  • “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তার বাসিন্দাদের থেকে অনুমুতি নাও এবং তাদেরকে সালাম করো।” [সূরা নূরঃ ২৮]
  • “যখন তোমরা নিজেদের ঘরে প্রবেশ করবে, তখন নিজেদের লোকদেরকে সালাম করবে অভিবাদন স্বরূপ যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতময় ও পবিত্র।” [সূরা নূরঃ ৬১] বিস্তারিত পড়ুন