দ্যূতিময় কুরআনঃ সূরা ফালাক [১]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পবিত্র কুরআনুল কারীমের ১১৩ নম্বর সূরা হচ্ছে সূরা ফালাক্ক। সর্বশেষ তথা ১১৪ নাম্বার সূরার নাম সূরা নাস। সূরা ফালাক এবং সূরা নাসকে একত্রে মুআওবিদাতাইন’ (যার অর্থ, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দু’টি সূরা) বলা হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামকরণ করেছিলেন।

পূর্ববর্তী সূরা ইখলাসের সাথে এই সূরার সম্পর্ক রয়েছে, পরবর্তী সূরা নাসের সাথেও সম্পর্ক রয়েছে। সূরা ফালাক এবং সূরা ইখলাস এর শুরু হয়েছে “ক্কুল” (বলো) শব্দটি দিয়ে; তারপর রাব্বুল ফালাক্ক (আল্লাহ) এর কথা বলা হয়েছে। আবার, সূরা ফালাক আর সূরা নাস — এই সূরা দু’টিকে নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক সময় পরপর দু’রাকাতে পড়েছেন। আরবি না জেনে যারা সূরা ফালাক্ক আর সূরা নাস পড়েন, তারাও বুঝতে পারবেন “ক্কুল আউযু বি রাব্বিল ফালাক্ক” এবং “ক্কুল আউযু বি রাব্বিন নাস” — সূরা দু’টির মাঝে মিল রয়েছে। ক্লাসিকাল তাফসীরগ্রন্থসমূহে এই সূরা দু’টির তাফসীরকে একত্রে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূরা ফালাক্ক এবং সূরা নাস — উভয় সূরা দু’টিতেই আল মুসতাআদ মিনহু [যার কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে] এবং আল মুসতাআদ বিহি [যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে] এর উল্লেখ আছে। এই দু’টি সূরাতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার সৃষ্টিসমূহের কাছ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে, সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, উভয় সূরাতেই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে — যা একই।
কিন্তু যার কাছে থেকে সাহায্য চাওয়া হয়েছে — সেগুলো আলাদা।

আল্লাহ সূরা ফালাক্কে তার একটি বর্ণনা দিয়েছেন — রব (অধিপতি)। তারপর কিছু জিনিসের উল্লেখ করেছেন যা থেকে আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।
সূরা নাসে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিছু নাম এবং গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন এবং কেবল একটি জিনিসের উল্লেখ করেছেন যা থেকে সাহায্য চাওয়া হয়, তা হলো — শয়তানের ওয়াসওয়াসা।

সূরা নাস এবং সূরা ফালাক, দুটি সূরাই যে একসাথে পরম্পরায় নাযিল হয়েছে — এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই।

মুফাসসির ডক্টর ফাদিল হাসসান আর রা’ই তার আলোচনায় বলেছেন, সূরা ফালাকে সেই সমস্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে যেগুলোর দ্বারা আক্রান্ত হবার ব্যাপারে মানুষের কোন হাত থাকে না যেমন — রাতের অন্ধকার, হিংসুকের হিংসা প্রভৃতি। অন্যদিকে সূরা নাসে আলোচিত হয়েছে সেই সমস্ত ঘটনাগুলো যা মানুষ করে থাকে (যেমন ওয়াসওয়াসা — শয়তানের কুমন্ত্রণা)। আমরা যখন সেই কুমন্ত্রণা পেয়ে খারাপ কাজ করবো — সেই কাজের জন্য আমরা দায়ী থাকবো এবং আখিরাতে তার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

আমরা দেখতে পাই যে সূরা ফালাকের চাইতে সূরা নাসে বেশি ব্যাকুলতা আছে — আল্লাহর কাছে আমরা বারবার সাহায্য চাই।

আমরা যখন কুমন্ত্রণায় আক্রান্ত হই এবং খারাপ কাজ করি, তা আমাদের ঈমান (বিশ্বাস) কে ক্ষতিগ্রস্ত করে — সুতরাং আমাদের আল্লাহকে আরো বেশি করে স্মরণ করতে হবে যাতে ঈমান আরো দৃঢ় আর মজবুত হয়।

সূরা ফালাকে আলোচিত হয়েছে সেই ক্ষতিগুলো যা বাহির থেকে আমাদের আক্রান্ত করে, আর সূরা নাসে সেই ক্ষতির কথা উল্লেখ হয়েছে যা আমাদের ভিতর থেকে আক্রান্ত করে — আর এটার জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি সাহায্য প্রার্থনা করা প্রয়োজন।

আন নাসঃ যখন আমরা পড়ি ক্কুল আউযু বি রাব্ব আল নাস, মালিক আল নাস, ইল-লাহি আন নাস, তখন আমরা ক্রমাগত আল্লাহকে তার নাম ও গুণবাচক নাম ধরে ডাকতে থাকি; যা অন্তরের ব্যাকুলতার বহির্প্রকাশ।

আল ফালাক্কঃ শয়তানের ওয়াসওয়াসা আমাদের অন্তরের ঈমানের জন্য যত বেশি ক্ষতিকর, বাইরের খারাপ আর ক্ষতিকর প্রভাব সেই তুলনায় কম। তাই বাইরের খারাপ শক্তির থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে সাহায্য চাওয়া দরকার। কিন্তু শয়তানের কুমন্ত্রণা, যা আমাদের ঈমানকে আক্রান্ত করে — তা থেকে সাহায্য চাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ব্যাকুল হয়ে অধিক পরিমাণ কান্নাকাটি করা প্রয়োজন। তাই সূরা আন-নাসে আল্লাহর নাম উল্লেখ করে তিনি বেশি বেশি উল্লেখিত আছেন।

সূরাটির ক্রমধারা

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা এই সূরায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ক্রমধারা উল্লেখ করেছেন, যা সাধারণ থেকে গভীর অর্থবহ। প্রথমে উল্লেখিত ক্ষতির চাইতে পরবর্তীতে উল্লেখিত ক্ষতির ব্যাপ্তি কম। একদম শেষে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন হিংসার কথা, যা কিনা সকল অনিষ্টসমূহের একটা মূল কারণ। কেননা, হিংসা কারো মাঝে এলে তবেই অন্য ব্যক্তির অনিষ্ট হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে একজন হিংসা করে, পরবর্তীতে সে অনিষ্টের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করে।

  • মিন শাররি মা খালাক — যা তিনি সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে [সমস্ত সৃষ্টি যার ক্ষতিকর সম্ভাবনা আছে]
  • মিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াক্কাব — রাতের অন্ধকার যখন ঘনীভূত হয়ে যায়, তার অনিষ্ট থেকে [বিশেষ করে রাতের অধকারে যেসব অনিষ্ট আর ক্ষতি হয় তা থেকে]
  • ওয়া মিন শাররি নাফফাসাত — যাদুকর/যাদুকরী/গিরায় ফুঁক দানকারিণীদের ক্ষতি থেকে
  • মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ — যারা হিংসুক

সূরা ফালাকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ

মুফাসসিরগণের বড় অংশ বলেছেন এটি মাদানী সূরা, অন্যেরা মাক্কী সূরা বলেছেন।

হুদাইবিয়ার চুক্তির পর [হিজরতের ৬ বছর পর], কুরাইশরা মুসলমানদের জন্য কম ভীতিকর ছিলো। মুসলমানদের সাথে চুক্তিভঙ্গের কারণে ইহুদী গোত্রসমূহ মদীনা থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো। তারা খাইবারে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তারা বুঝতে পারলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের উপরে লক্ষ্য রাখবেনা বরং তাদের দিকেই লক্ষ্য রাখবেন।

সুতরাং তারা ষড়যন্ত্র করতে লাগলো যাতে আল্লাহর রাসূল (সা) তাদের প্রতি কিছু করার আগেই তারা উনাকে ঘায়েল করতে পারে। লাবিদ বিন আ’সম ছিলো বনু যুরাইক গোত্রের — কেউ বলেন সে ছিলো ইহুদী, কেউ বলেন সে ছিলো খ্রিষ্টান, অন্যেরা বলেন সে মুসলিম হয়েছিলো, কিন্তু মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ইহুদীর লাবিদ বিন আ’সম এর কাছে এসে বললো আমরা মুহাম্মাদ (সা) এর উপর বিভিন্ন রকম যাদু করার চেষ্টা করেছি, যা কাজ করেনি। তুমি এমন করে যাদু করো যেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া যায়। কারণ তুমি আমাদের মাঝে সেরা যাদুকর। কোন কোন রেওয়ায়েতে এসেছে, সে তার মেয়ের কাছে সাহায্য চেয়েছিলো — যে একজন অভিজ্ঞ যাদুকরী ছিলো।

লাবিদ এক ছোট ছেলেকে অর্থ দিয়ে হাত করেছিলো যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাস হিসেবে কাজ করতো। সেই ছেলেটি নবীজীর ব্যবহৃত চিরুনীর কয়েকটি কাঁটা চুরি করে এনেছিলো যাতে নবীজীর চুল লেগে ছিলো। লাবিদ সেই চিরুনির কাঁটা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুল এবং একটি পুতুল নিয়ে গিঁট দিয়ে দিয়ে যাদু করতে লাগলো। এই পুতুল আর চিরুনি কাঁটাসমেত জিনিসটা, যার উপরে যাদু করা হয়েছিলো — তারা এটাকে যু আরওয়ান নামের কূপের নিচে পাথরচাপা দিয়ে রেখে এসেছিলো।

যাদুর প্রভাবঃ

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যাদুর প্রভাব পড়তে পূর্ণ এক বছর সময় লাগলো। বছরের শেষ ছয় মাসে মেজাজে কিছু পরিবর্তন অনুভূত হতে লাগলো। শেষ চল্লিশ দিন কঠিন এবং শেষ তিন দিন কঠিনতর হয়ে গেলো। তবে এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব তার উপর পড়লো এমন যে তিনি দিন দিন রোগা আর নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগলেন। তার ঘুম কম হচ্ছিলো, কোন কাজের ব্যাপারে মনে করতেন, করে ফেলেছেন, অথচ তা করেননি। এসব প্রভাব তার ব্যক্তিস্বত্ত্বা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। এমনকি তার ওপর দিয়ে কি যাচ্ছে, তা অন্যেরা জানতে পারেনি। কিন্তু নবী হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তায় তার মধ্যে সামান্যতম ব্যাঘাতও সৃষ্টি হতে পারেনি।

সূরা নাযিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (আসবাব আন নুযূল)

সহীহ আল বুখারীতে ইমাম বুখারী রহিমাহুল্লাহ লিপিবদ্ধ করেছেন —

`A’ishah said, “The Messenger of Allah was bewitched until he thought that he had relations with his wives, but he had not had relations with them.” Sufyan said, “This is the worst form of magic when it reaches this stage.” So the Prophet said,

«يَا عَائِشَةُ، أَعَلِمْتِ أَنَّ اللهَ قَدْ أَفْتَانِي فِيمَا اسْتَفْتَيْتُهُ فِيهِ؟ أَتَانِي رَجُلَانِ فَقَعَدَ أَحَدُهُمَا عِنْدَ رَأْسِي وَالْاخَرُ عِنْدَ رِجْلَيَّ، فَقَال الَّذِي عِنْدَ رَأْسِي لِلْاخَرِ: مَا بَالُ الرَّجُلِ؟ قَالَ: مَطْبُوبٌ، قَالَ: وَمَنْ طَبَّهُ، قَالَ: لَبِيدُ بْنُ أَعْصَمَ: رَجُلٌ مِنْ بَنِي زُرَيْقٍ حَلِيفٌ لِيَهُودَ، كَانَ مُنَافِقًا، قَالَ: وَفِيمَ؟ قَالَ: فِي مُشْطٍ وَمُشَاطَةٍ، قَالَ: وَأَيْنَ؟ قَالَ: فِي جُفِّ طَلْعَةٍ ذَكَرٍ، تَحْتَ رَاعُوفَةٍ فِي بِئْرِ ذَرْوَانَ»

(O `A’ishah! Do you know that Allah has answered me concerning that which I asked Him Two men came to me and one of them sat by my head while the other sat by my feet. The one who was sitting by my head said to the other one, `What is wrong with this man’ The other replied, `He is bewitched.’ The first one said, `Who bewitched him’ The other replied, `Labid bin A`sam. He is a man from the tribe of Banu Zurayq who is an ally of the Jews, and a hypocrite.’ The first one asked, `With what (did he bewitch him)’ The other replied, `With a comb and hair from the comb.’ The first one asked, `Where (is the comb)’ The other answered, `In the dried bark of a male date palm under a rock in a well called Dharwan.’) `A’ishah said, “So he went to the well to remove it (the comb with the hair). Then he said,

«هَذِهِ الْبِئْرُ الَّتِي أُرِيتُهَا، وَكَأَنَّ مَاءَهَا نُقَاعَةُ الحِنَّاءِ،وَكَأَنَّ نَخْلَهَا رُؤُوسُ الشَّيَاطِين»

(This is the well that I saw. It was as if its water had henna soaked in it and its palm trees were like the heads of devils.) So he removed it (of the well). Then I (`A’ishah) said, `Will you not make this public’ He replied,

«أَمَّا اللهُ فَقَدْ شَفَانِي، وَأَكْرَهُ أَنْ أُثِيرَ عَلَى أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ شَرًّا»

(Allah has cured me and I hate to spread (the news of) wickedness to any of the people.)”

যাদুর প্রভাবে নবীজীর শারীরিক ও মানসিক কষ্ট হলেও, তার নবুওয়াতের মর্যাদা পুরোপুরি সমুন্নত থেকেছে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তি জীবনে যাদুর ব্যাপারটি অনুভব করে তিনি বারবার পেরেশান হয়ে পড়ছিলেন। শেষে তিনি একদিন নবীজী হযরত আয়েশার কাছে ছিলেন। এসময় বারবার আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে লাগলেন। জেগে উঠে হযরত আয়েশাকে বললেন, আমি যে কথা আমার রবের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞেস করলেন, কি কথা? নবীজী জবাব দিলেন, “দু’জন লোক (অর্থাৎ দু’জন ফেরেশতা লোকের আকৃতি ধরে) আমার কাছে এলো। একজন ছিলো মাথার দিকে, অন্যজন পায়ের দিকে। একজন জিজ্ঞেস করলো, এঁর কি হয়েছে? অন্যজন জবাব দিলো, এঁর উপর যাদু করা হয়েছে। প্রথমজন জিজ্ঞেস করলো, কে করেছে? জবাব দিলো, লাবিদ বিন আ’সম। জিজ্ঞেস করলো, কোন জিনিসের মধ্যে করেছে, জবাব দিলো, একটি পুরুষ খেজুরের ছড়ার আবরণে আবৃত চিরুনি ও চুলের মধ্যে। জিজ্ঞেস করলো, কোথায়া আছে? জবাব দিলো, বনী যুরাইকের কূয়া যী আযওয়ানের তলায় পাথর চাপা দেয়া আছে। জিজ্ঞেস করলো, তাহলে এখন কি করা দরকার? জবাব দিলো, কূয়ার পানি সেঁচে ফেলতে হবে, তারপর পাথরের নিচ থেকে সেটি বের করে আনতে হবে।”

সূরা নাস এবং সূরা ফালাকে মোট ১১টি আয়াত আছে। সেই কালো যাদুর পুতুলটিতে (ভুডুডল) ১১টি গিরা দেয়া হয়েছিলো। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ক’জন সাহাবাদের বলেন সেই কূপের কাছে যেতে এবং নিচে পাথরচাপা দেয়া পুতুলটি উদ্ধার করতে। তারা যখন পুতুলের গা থেকে একটা করে গিরা খুলছিলেন/কাঁটা তুলবেন — তারা একটি করে আয়াত পড়বেন।

যখন সবগুলো গিরা খুলে দেয়া হলো — নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বস্তিবোধ করেন যেমন অনুভব করে কোন ব্যক্তি, যে রশি দিয়ে বাঁধা ছিলো তারপর তার বাঁধন খুলে গেলো। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাবিদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। সে দোষ স্বীকার করলো এবং তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। কারণ, নিজের ব্যক্তিস্বত্ত্বার কারণে তিনি কোনদিন কারো উপর প্রতিশোধ নেননি। শুধু তাই নয়, তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কোন কথাবার্তা বলতেও অস্বীকৃতি জানালেন। কারণ তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে রোগমুক্ত করেছেন, কাজেই এখন আমি কারো বিরুদ্ধে লোকদের উত্তেজিত করতে চাইনা।

এই ঘটনার কারণে অনেক আলেমগণ সূরাটিকে মাদানী সূরা বলেন। অন্য আলেমগণ বলেন যে ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালাম এসেছিলেন আল্লাহর রাসূলকে এই সূরাদ্বয় পাঠ করার ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দিতে যা কিনা পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মক্কাতে অবস্থানকালীন সময়েই নাযিল হয়েছিলো ।

পরিশিষ্ট

  1. সূরা ফালাকের আলোচনা আগামী পর্বে সমাপ্য ইনশাআল্লাহ।

  2. কিছু কথাঃ

    আসসালামু আলাইকুম। পবিত্র কুরআনুল কারীম সমগ্র মানবজাতির মুক্তির পয়গাম। কুরআনের অর্থ সঠিকভাবে বুঝতে হলে প্রয়োজন কী বিষয়ে, কোন অবস্থায় তা এসেছিলো এই দুনিয়ায় তা জানা এবং বোঝা। তাই তাফসীর পাঠ খুবই প্রয়োজনীয় বলে অনুধাবন করলাম। আমার ব্যক্তিগত জীবনের ‘কুরআন তাফসীর পাঠ’কে বেগবান করতে এবং এই যাত্রায় আমার সাথে আরো কিছু মানুষকে শামিল করার নিয়্যাতে আমার এই প্রচেষ্টা। বায়্যিনাহ ইনস্টিটিউটের চিন্তাবিদ ও দা’ঈ নুমান আলী খানের উপস্থাপনের তাফসীর অনেক প্রাঞ্জল, সাবলীল হওয়ায় তাকে মূল ধরে আমি পড়া এবং শোনার নিয়্যাত করেছি। এই কোর্সের কন্টেন্ট/উপকরণ ইন্টারনেটে অ্যাভেইলেবল থাকায় তা সংগ্রহ করা সহজ হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনুল কারীমের আলোকে এই আলোচনা ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন এবং যেকোন অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন। আমিন।

  3. আলোচনার মূল উৎসঃ বায়্যিনাহ ইন্সটিটিউটের “ড্রিম তাফসীর” প্রজেক্টের পাঠ্য
  4. অডিও লিঙ্কঃ সূরা ফালাক ১, সূরা ফালাক ২ || বাইয়্যিনাহ ইনস্টিটিউট [পডকাস্ট]
  5. অন্যান্য পাঠঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, তাফহীমুল কুরআন

Collected from : নির্জলা সত্যের খোঁজে

Advertisements

One response to “দ্যূতিময় কুরআনঃ সূরা ফালাক [১]

  1. বর্তমান জমানায় উনার কোন উম্মত যদি এইরকম জাদুটনার শিকার হয়ে থাকেন, তবে সেই ক্ষেত্রে সমাধান কি ?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s