ইসলামকে নিয়ে এবং রাসূল (স) কে নিয়ে ইহুদি খ্রিষ্টানদের বিদ্রুপে কী করা উচিত

“অবশ্য ধন-সম্পদে এবং জনসম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্য তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং মুশরেকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং পরহেযগারী অবলম্বন কর, তবে তা হবে একান্ত সৎসাহসের ব্যাপার। “ [সূরা আল ইমরান : ১৮৬]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনুল কারীমে আমাদেরকে কী জানিয়েই রেখেছেন আগে। ইহুদী এবং খৃষ্টানরা আক্রমণাত্মক, বিদ্রুপাত্মক কথা বলবেই। কিন্তু মু’মিনদেরকে আল্লাহ ধৈর্য্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে, কিন্তু মু’মিনদের তাদের সেইসব চক্রান্তের দাস হলে চলবে না। ওরা খুব ভালো করেই একেকটা ফাঁদ পেতে রাখবে, আর গাড়ি পোড়ানো হত্যাকান্ডের এই প্রতিবাদের সুযোগে তারাও তাদের পরবর্তী চাল চালবে।

শয়তান ক্রমাগত ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে আমাদেরকে। আমাদের নিজেদেরকে হতে হবে বুদ্ধিসম্পন্ন, সূক্ষ্মদর্শী। মুসলিম উম্মাহকে বুঝতে হবে, কখন কী পদক্ষেপ নিলে তা সর্বোৎকৃষ্ট ফল আনবে। আবেগী পুতুল হবার মাঝে কোন উপকার নেই। বরং তা অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে।

এই লেকচারটি শুনুন মাত্র ৪ মিনিটেরঃ

“যদি তারা ঈমান ও তাকওয়া অবলম্বন করতো, তাহলে আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান লাভ করতো এটি তাদের জন্য হত বেশী ভালো। হায়, যদি তারা একথা জানতো।

হে ঈমানদারগণ!১ ‘রাইনা’ বলো না বরং ‘উন্‌যুরনা’ বলো এবং মনোযোগ সহকারে কথা শোনো।২ এই কাফেররা তো যন্ত্রণাদায়ক আযাব লাভের উপযুক্ত।“[সূরা বাকারাহ ১০৩ – ১০৪]

এই আয়াতের ব্যাখা তাফসীরে যেমন এসেছেঃ

১) এ রুকূ’তে এবং পরবর্তী রুকূ’গুলোতে ইহুদিদের পক্ষ থেকে ইসলাম ও ইসলামী দলের বিরুদ্ধে যেসব অনিষ্টকর কাজ করা হচ্ছিল সে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসারীদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তারা মুসলমানদের মনে যে সমস্ত সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল এখানে সেগুলোর জবাব দেয়া হয়েছে। মুসলমানদের সাথে ইহুদিদের আলাপ–আলোচনায় যেসব বিশেষ বিশেষ প্রসঙ্গ উত্থাপিত হতো, সেগুলোও এখানে আলোচিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এ বিষয়টিও সামনে থাকা উচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় আগমনের পর যখন শহরের আশপাশের এলাকায় ইসলামের দাওয়াত বিস্তার লাভ করতে থাকলো তখন ইহুদিরা বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদেরকে ধর্মীয় বিতর্কে টেনে আনার চেষ্টা করতে থাকলো। তাদের তিলকে তাল করার, অতি গুরুত্বহীন বিষয়কে বিরাট গুরুত্ব দেয়ার সূ্ক্ষ্মতিসূক্ষ্ম বিষয়ের অবতারণা করার, সন্দেহ-সংশয়ের বীজ বপন করার ও প্রশ্নের মধ্য থেকে প্রশ্ন বের করার মারাত্মক রোগটি এসব সরলমনা লোকদের মনেও তারা সঞ্চারিত করতে চাচ্ছিল। এমন কি তারা নিজেরাও সশরীরে নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে এসে প্রতারণামূলক কথাবার্তা বলে নিজেদের নীচ মনোবৃত্তির প্রমাণ পেশ করতো।

২) ইহুদিরা কখনো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে এলে অভিবাদন, সম্ভাষণ ও কথাবার্তার মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সকল পদ্ধতিতে নিজেদের মনের ঝাল মিটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতো। দ্ব্যর্থবোধক শব্দ বলা, উচ্চস্বরে কিছু বলা এবং অনুচ্চস্বরে অন্য কিছু বলা, বাহ্যিক ভদ্রতা ও আদব-কায়দা মেনে চলে পর্দান্তরালে রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবমাননা ও অপমান করার কোন কসরতই বাকি রাখতো না। পরবর্তী পর্যায়ে কুরআনে এর বহু দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে মুসলমানদেরকে একটি বিশেষ শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এ শব্দটি বহু অর্থবোধক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আলোচনার সময় ইহুদিদের যখন একথা বলার প্রয়োজন হতো যে, থামুন বা ‘কথাটি আমাদের একটু বুঝে নিতে দিন’ বা তখন তারা ‘রাইনা’ বলতো। এ শব্দটির বাহ্যিক অর্থ ছিল, ‘আমাদের একটু সুযোগ দিন’ বা ‘আমাদের কথা শুনুন।’ কিন্তু এর আরো কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থও ছিল। যেমন হিব্রু ভাষায় অনুরূপ যে শব্দটি ছিল তার অর্থ ছিলঃ ‘শোন, তুই বধির হয়ে যা।’ আরবী ভাষায়ও এর একটি অর্থ ছিল, ‘মূর্খ ও নির্বোধ’। আলোচনার মাঝখানে এমন সময় শব্দটি প্রয়োগ করা হতো যখন এর অর্থ দাঁড়তো, তোমরা আমাদের কথা শুনলে আমরাও তোমাদের কথা শুনবো। আবার মুখটাকে একটু বড় করে ‘রা-ঈয়ানাও (আরবী) বলার চেষ্টা করা হতো। এর অর্থ দাঁড়াতো ‘ওহে, আমাদের রাখাল!’ তাই মুসলমানদের হুকুম দেয়া হয়েছে, তোমরা এ শব্দটি ব্যবহার না করে বরং ‘উন্‌যুরনা’ বলো। এর অর্থ হয়, ‘আমাদের দিকে দেখুন ’ ‘আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিন’ অথবা ‘আমাদের একটু বুঝতে দিন।’ এরপর আবার বলা হয়েছে, ‘মনোযোগ সহকারে কথা শোনো। ’অর্থাৎ ইহুদিদের একথা বার বার বলার প্রয়োজন হয়। কারণ তারা নবীর কথার প্রতি আগ্রহী হয় না এবং তাঁর কথা বলার মাঝখানে তারা নিজেদের চিন্তাজালে বার বার জড়িয়ে পড়তে থাকে। কিন্তু তোমাদের তো মনোযোগ সহকারে নবীর কথা শুনতে হবে। কাজেই এ ধরনের ব্যবহার করার প্রয়োজনই তোমাদের দেখা দেবে না।

উস্তাদ নুমান আলী খান এই ১৪ মিনিটের ভিডিওতে আলোচনা করেছেন মহিমান্বিত গ্রন্থ কুরআনুল কারীমের সূরা বাকারার ১০৩-১০৪ নাম্বার আয়াতের আলোকে।

আল্লাহ আমাদেরকে তাকওয়াসম্পন্ন উম্মাহ হবার যোগ্যতা দিন এবং আমাদেরকে সফল মু’মিনদের দলভুক্ত করুন, যাদের উপর তিনি সন্তুষ্ট।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s